আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উচ্চপর্যায়ের আলোচনা: কোন বিষয়গুলো বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে শান্তির পথে

আকতার   নিউজ ডেস্ক

১১ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

ইসলামাবাদে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা অত্যন্ত নাজুক এক পর্যায়ে রয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া এই আলোচনায় উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসের পাশাপাশি বেশ কিছু কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত জটিলতা রয়েছে যা সমঝোতাকে কঠিন করে তুলছে। আলোচনার সবচেয়ে বড় বাধা হলো উভয় পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান গভীর আস্থার সংকট। ইরান বারবার বলছে, তারা অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে পারছে না এবং আলোচনার টেবিলে বসলেও অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ইরানের প্রতিনিধি দল একক কোনো নীতি নিয়ে আলোচনার টেবিলে নেই। দেশটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠান, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (IRGC) এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও মতপার্থক্য রয়েছে, যা আলোচনার গতিকে শ্লথ করছে।ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এই প্রণালী সবার জন্য উন্মুক্ত ও বাধামুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছে।যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের দাবি করছে। বিপরীতে, ইরান নিজেদের পারমাণবিক জ্বালানি উন্নয়নের ‘সার্বভৌম অধিকার’ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখার অবস্থানে অটল।

. পরস্পরবিরোধী দাবি ও শর্ত

বিষয় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ইরানের অবস্থান
পারমাণবিক কর্মসূচি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ ও কর্মসূচি বাতিল। পারমাণবিক গবেষণার সার্বভৌম অধিকার ও সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখা।
আঞ্চলিক প্রভাব ইরানকে তার প্রক্সি নেটওয়ার্ক ও সামরিক সহায়তা বন্ধ করতে হবে। এই জোটসমূহকে ইরানের নিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ মনে করে।
নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ শর্তসাপেক্ষে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল। সমস্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দকৃত সম্পদ নিঃশর্ত মুক্তি।
সামরিক হামলা লেবানন ও অন্যান্য অঞ্চলে চলমান সামরিক অভিযানের দায় স্বীকার। ইসরায়েলি হামলা বন্ধে মার্কিন প্রশাসনকে বাধ্য করা।
  • অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তা: চলমান যুদ্ধবিরতি ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এই অল্প সময়ের মধ্যে সব জটিল সমস্যার সমাধান না হলে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

  • সামরিক সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা: উভয় দেশই নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও শক্তির প্রদর্শনের চেষ্টা করছে। কোনো এক পক্ষ সামান্য ভুল করলেই পরিস্থিতি পুনরায় সামরিক সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

মূলত, এই আলোচনাটি একটি "সবকিছু বা কিছুই নয়" (All-or-nothing) পরিস্থিতির মতো। সফল হলে এটি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি আনতে পারে, অন্যথায় তা ফের আঞ্চলিক অস্থিরতা ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকটের দিকে নিয়ে যেতে পারে।