আন্তর্জাতিক

ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা: নিহত ৫, আহত ১৭০

আকতার   নিউজ ডেস্ক

০৫ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা: নিহত ৫, আহত ১৭০ ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাগুলোতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। রোববার (৫ এপ্রিল, ২০২৬) ভোরে চালানো এই হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত এবং ১৭০ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা (IRNA)।খুজেস্তান প্রদেশের মাহশাহর স্পেশাল ইকোনমিক জোন এবং বন্দর ইমাম পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। হামলার পর ওই এলাকাগুলোতে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে।মাহশাহর এলাকার ফজর-১, ফজর-২, রেজাল এবং আমির-কবির পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানিগুলোতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এর মধ্যে বন্দর ইমাম কমপ্লেক্সের বেশ কিছু অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, নিহত ৫ জনের সবাই কারখানার শ্রমিক ও নিরাপত্তা কর্মী। আহত ১৭০ জনের মধ্যে বেশিরভাগই প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতাল ছেড়েছেন, তবে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় এই হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই স্থাপনাগুলো ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড এবং এগুলো ধ্বংস করার মাধ্যমে দেশটির সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে আনা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ইরানের ইস্পাত শিল্প ও জ্বালানি খাতের ওপর তাদের এই আক্রমণ অব্যাহত থাকবে।ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ এবং ‘বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছে। তারা এই ঘটনার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। একই দিন বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছেও একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)। তবে কেন্দ্রের মূল কাঠামো সুরক্ষিত রয়েছে এবং তেজস্ক্রিয়তা ছড়ানোর কোনো ঝুঁকি নেই।মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত এখন চরম আকার ধারণ করেছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আল্টিমেটাম, অন্যদিকে ইসরায়েলের একের পর এক কৌশলগত হামলা—সব মিলিয়ে অঞ্চলটি একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।