আন্তর্জাতিক

ফিলিস্তিনিদের জন্য ইসরায়েলের মৃত্যুদণ্ড আইন: বিচার নাকি চরম বৈষম্য?

আকতার   নিউজ ডেস্ক

০১ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

ফিলিস্তিনিদের জন্য ইসরায়েলের মৃত্যুদণ্ড আইন: বিচার নাকি চরম বৈষম্য?
ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য ইসরায়েলি সংসদে (নেসেট) পাস হওয়া নতুন ‘মৃত্যুদণ্ড বিল’ বিশ্বজুড়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কট্টরপন্থী ইসরায়েলি সরকারের এই পদক্ষেপকে একদিকে ‘সন্ত্রাসবাদ বিরোধী বিচার’ হিসেবে দাবি করা হচ্ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো একে ‘চরম বৈষম্য’ ও ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ইসরায়েলের নতুন এই আইন অনুযায়ী, যেসব ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি নাগরিক বা সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালাবে, তাদের বিচারে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই আইনটি মূলত ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করেই তৈরি করা হয়েছে, যা ইসরায়েলি বিচারব্যবস্থায় এর আগে বিরল ছিল।যুক্তির লড়াই: বিচার না কি প্রতিশোধ? * ইসরায়েলি অবস্থান: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টরপন্থী জোট সরকারের দাবি, ইসরায়েলি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং হামলাকারীদের মনে ভয় ধরাতে এই আইনের বিকল্প নেই। একে তারা ‘ন্যায়বিচার’ হিসেবে দেখছেন।ফিলিস্তিনি ও মানবাধিকার কর্মীদের দাবি: ফিলিস্তিনি নেতৃবৃন্দ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো সংস্থাগুলো বলছে, এটি কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া নয়, বরং রাষ্ট্রীয় মদদে ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার একটি হাতিয়ার। তাদের মতে, যেখানে ইসরায়েলি সেটলাররা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালালে কোনো বিচার হয় না, সেখানে ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড কেবল ‘বর্ণবাদী বৈষম্য’ বা অ্যাপার্থাইড ব্যবস্থার বহিঃপ্রকাশ।আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘ এই আইনের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, আধুনিক বিশ্বে মৃত্যুদণ্ড একটি অমানবিক দণ্ড। এছাড়া, এই আইন কার্যকর হলে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজায় সহিংসতা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে বর্তমানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এই আইন কার্যকর হলে অনেক রাজনৈতিক বন্দি বা অভিযুক্ত ব্যক্তির জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আইনটি ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের কণ্ঠরোধ করার একটি রাজনৈতিক কৌশল মাত্র।
ইসরায়েলের এই বিতর্কিত আইন কি সত্যিই শান্তি আনবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্যের আগুনিকে আরও উসকে দেবে? বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই প্রশ্নই এখন বিশ্ববাসীর সামনে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।