আন্তর্জাতিক

‘ইরানের সহায়তা লাগুক বা না লাগুক, হরমুজ প্রণালি শিগগির খুলবে’: ট্রাম্প

আকতার   নিউজ ডেস্ক

১১ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ—হরমুজ প্রণালি নিয়ে ফের কঠোর হুংকার দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসলামাবাদে আসন্ন শান্তি আলোচনার আগে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সহযোগিতা থাকুক বা না থাকুক, হরমুজ প্রণালি খুব দ্রুতই আবার খুলে দেওয়া হবে।শুক্রবার ওয়াশিংটন ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের (ইরান) সহায়তা নিয়ে বা সহায়তা ছাড়াই হরমুজ প্রণালি খুলে দেব। আমার বিশ্বাস, এটি খুব দ্রুতই ঘটবে। আর যদি তা না হয়, তবে আমরাই সেটি সম্পন্ন করব।”বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটিতে কার্যত অবরোধ আরোপ করে। ট্রাম্প জানান, তিনি কোনোভাবেই তেহরানকে আন্তর্জাতিক নৌপথে ট্রানজিট ফি বা অন্য কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে দেবেন নাযুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে। এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার জন্য বর্তমানে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদল অবস্থান করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই শান্তি আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।তবে শান্তি আলোচনার টেবিলে বসার ঠিক আগ মুহূর্তে ট্রাম্পের এই কড়া মন্তব্য কূটনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে চাপে রেখে নিজেদের শর্তে চুক্তি স্বাক্ষর করতে ট্রাম্প এই কৌশলী হুংকার ব্যবহার করছেন।হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়াকে অগ্রাধিকার দিলেও ট্রাম্প জানিয়েছেন, শান্তি আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। ট্রাম্পের ভাষায়, “পরমাণু অস্ত্র না থাকা—এটাই চুক্তির ৯৯ শতাংশ।”ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেকটা ভেঙে পড়েছে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের ওপর কঠোর আঘাত করেছি। এখন হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবেই খুলে দেওয়া হবে, আমরা খুব দ্রুতই তা নিশ্চিত করব।”এদিকে, তেহরান এখনো ট্রাম্পের এই সর্বশেষ মন্তব্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া এই বৈঠকই নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির অবসান হবে, নাকি সংকট আরও ঘনীভূত হবে।