আন্তর্জাতিক

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা: বরফ গলার অপেক্ষায় মধ্যপ্রাচ্য

আকতার   নিউজ ডেস্ক

১১ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম উত্তেজনা ও বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে শান্তি আলোচনার টেবিলে বসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে।

দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি শেষে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূ-রাজনৈতিক সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানের উপায় খুঁজতে দুই দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদে একত্রিত হয়েছেন।অভূতপূর্ব এক কূটনৈতিক কৌশলে আলোচনাটি চলছে ‘প্রক্সিমিটি ফরম্যাটে’। অর্থাৎ, দুই দেশের প্রতিনিধিদল একই হোটেলে অবস্থান করলেও সরাসরি একে অপরের মুখোমুখি বসছেন না। পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষের প্রস্তাব ও দাবিনামা আদান-প্রদান করছেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যকার গভীর অবিশ্বাসের কারণেই এমন সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আলোচনায় তিনি ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ ও আঞ্চলিক প্রক্সি গ্রুপগুলোর সহায়তা বন্ধ করার বিষয়ে কঠোর বার্তা দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ আলোচনার শুরুতে ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের ওপর থেকে আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কোনো কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন।এই বৈঠককে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলোর চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পাকিস্তান সরকার এই শান্তি আলোচনাকে তাদের কূটনৈতিক দক্ষতার বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, “আমরা শান্তি স্থাপনের জন্য একটি নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছি। আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য—এই অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা।”বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো এই আলোচনার দিকে তাকিয়ে আছে। যদি এই বৈঠক থেকে কোনো যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তির রূপরেখা বেরিয়ে আসে, তবে তা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম থেকে শুরু করে সামগ্রিক বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘ কয়েক দশকের বৈরিতা ও অবিশ্বাসের দেয়াল এত দ্রুত ভাঙা সম্ভব নয়। এখন দেখার বিষয়, ইসলামাবাদের এই আলোচনা কি সত্যিই একটি নতুন যুগের সূচনা করবে, নাকি কেবল একটি সাময়িক বিরতির নামান্তর হবে?