আন্তর্জাতিক

মার্কিন সেনা উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান ‘পুরোপুরি ব্যর্থ’: বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবি ইরানের

আকতার   নিউজ ডেস্ক

০৫ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

মার্কিন সেনা উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান ‘পুরোপুরি ব্যর্থ’: বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবি ইরানের ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান F-15-এর পাইলট ও ক্রু সদস্যদের উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো একটি বিশেষ অভিযানকে 'পুরোপুরি ব্যর্থ' বলে দাবি করেছে তেহরান। রোববার (৫ এপ্রিল, ২০২৬) ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভিযানে অংশ নেওয়া আমেরিকার একাধিক যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে তারা।ইরানের ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফিকারি এক বিবৃতিতে জানান, ইসফাহানের দক্ষিণে একটি পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনী এই তথাকথিত উদ্ধার অভিযান চালাতে চেয়েছিল। কিন্তু ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর সময়োচিত পাল্টা আক্রমণে তাদের সেই পরিকল্পনা ধূলিসাৎ হয়ে যায়।তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি C-130 ট্রান্সপোর্ট বিমান এবং দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে। একে মার্কিন সামরিক শক্তির জন্য একটি 'বড় ধাক্কা' হিসেবে বর্ণনা করেছে ইরান। ইরানের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে তিনি জানান, মার্কিন বাহিনী অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে তাদের দ্বিতীয় নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে (কর্নেল পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা) উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। ট্রাম্প এই অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম "সবচেয়ে সাহসী অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান" বলে অভিহিত করেছেন।ইরানের গণমাধ্যমগুলোর দাবি অনুযায়ী, উদ্ধারের সময় মার্কিন বাহিনীর সাথে ইরানি বিশেষ ইউনিটের সরাসরি বন্দুকযুদ্ধ হয়। অন্যদিকে, মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে তাদের একটি হেলিকপ্টার এবং একটি A-10 বিমান হামলার শিকার হলেও কোনো মার্কিন সেনা নিহত হয়নি।গত শুক্রবার ইরানের আকাশে একটি মার্কিন F-15E স্ট্রাইক ইগল বিমান ভূপাতিত হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। ওই বিমানের দুই ক্রু সদস্যকে ঘিরেই এই উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়।আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশই এই ঘটনাকে নিজেদের জয় হিসেবে প্রচার করছে। একদিকে ইরান বলছে তারা মার্কিন শক্তির দম্ভ গুঁড়িয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে হোয়াইট হাউস বলছে তারা তাদের সেনাকে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে এনে সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে।