আন্তর্জাতিক

টাকা না পেয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করলেন ইসরায়েলি প্রোপাগান্ডা কর্মীরা

আকতার   ঢাকা

১০ মার্চ ২০২৬


| ছবি: 

 

 ইসরায়েলের সরকারি প্রোপাগান্ডা বা জনকূটনীতি (হ্যাসবারা) কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত সাবেক কর্মী ও ঠিকাদাররা বকেয়া অর্থ আদায়ের দাবিতে দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাদের দাবি, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা অভিযানের পক্ষে বিশ্বজুড়ে প্রচারণার কাজ করেও তারা ‘মিলিয়ন মিলিয়ন শেকেল’ পাওনা রয়েছেন। ইসরায়েলি দৈনিক ক্যালকালিস্ট এবং লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মামলার মূল বিষয়সমূহ:

  • বিশাল বকেয়া: দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে প্রায় ২০ লাখ শেকেল (প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার) দাবি করেছে। তারা ইসরায়েলি নেতাদের জন্য স্টুডিও সুবিধা এবং ইউরোপে প্রচারণামূলক কাজে অর্থায়ন করেছিল।

  • আইলন লেভির বকেয়া: ইসরায়েল সরকারের সাবেক মুখপাত্র আইলন লেভিও তার পাওনা থাকার কথা জানিয়েছেন। তবে আইনি জটিলতার কারণে তিনি আপাতত মামলায় অংশ নিচ্ছেন না।

  • বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা: ঠিকাদারদের দাবি, ৭ অক্টোবরের পর তড়িঘড়ি করে বিপুল সংখ্যক ইনফ্লুয়েন্সার ও ফ্রিল্যান্সার নিয়োগ দেওয়া হলেও পুরো অর্থায়ন প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত বিশৃঙ্খল।

প্রোপাগান্ডা মিশনের পরিধি: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'ইন্টেলেক্ট' নামক একটি প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের কাছে ১৫ লাখ শেকেল দাবি করেছে। এই অর্থ নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ-এ আন্তর্জাতিক আদালতের শুনানির সময় ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভের বিপরীতে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের পাঠানোর কাজে ব্যয় করা হয়েছিল। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াভ গ্যালান্টের সাক্ষাৎকারের জন্য স্টুডিও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানও বড় অঙ্কের অর্থ পাওনা রয়েছে।

বাড়ছে প্রোপাগান্ডা ব্যয় ও নতুন কৌশল: ইসরায়েল সরকার হ্যাসবারা বা প্রোপাগান্ডা কার্যক্রমের জন্য বাজেটে বড় ধরনের বরাদ্দ বাড়িয়েছে:

  • অতিরিক্ত বাজেট: গত সেপ্টেম্বরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হ্যাসবারা খাতে অতিরিক্ত ১৫ কোটি শেকেল অনুমোদন দেওয়া হয়।

  • শিক্ষা খাতে কাটছাঁট: এই প্রচারণার অর্থের একটি অংশ উচ্চশিক্ষা খাতের বাজেট থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • টার্গেট যুক্তরাষ্ট্র: ২০২৪ সালের জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে ইহুদিবিদ্বেষের সংজ্ঞা পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে একটি বিশেষ প্রোপাগান্ডা প্রচারণা চালায় ইসরায়েলের প্রবাসবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

সরকারের বক্তব্য: ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, চুক্তি প্রক্রিয়ায় কিছু কারিগরি ও আইনি অনিয়ম সামনে এসেছে। তবে বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় তারা বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।