আন্তর্জাতিক

অর্থসংকট ও যুদ্ধের কালো মেঘ: বিশ্বকাপের আগে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দর

আকতার   নিউজ ডেস্ক

২৪ মার্চ ২০২৬


| ছবি: 

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আর মাত্র ৮০ দিন পরই পর্দা উঠবে ফুটবল বিশ্বকাপের মেগা আসরের। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে আয়োজিত এই আসরকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা থাকলেও আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে দেখা দিয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অচলাবস্থা, অর্থসংকট এবং ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ—সব মিলিয়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন খাদের কিনারায়।

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান সরকারি অচলাবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা টিএসএ (TSA) কর্মকর্তাদের ওপর। গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে বেতন না পাওয়ায় অন্তত ৪০০ কর্মকর্তা ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। যারা কর্মরত আছেন, তাদের মধ্যেও তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। ফলে চেক-ইন কাউন্টার এবং সিকিউরিটি গেটগুলোতে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ লাইন, যা যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলছে।

বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টিএসএ কর্মকর্তাদের পরিবর্তে আইসিই (ICE) বা ইমিগ্রেশন এজেন্টদের মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে সরকারি কর্মচারী ইউনিয়ন। তাদের দাবি, বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্য বিশেষভাবে অপ্রশিক্ষিত এবং সশস্ত্র এজেন্ট নিয়োগ হিতে বিপরীত হতে পারে এবং যাত্রীদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিশ্বকাপের ভেন্যু ও যাতায়াত ব্যবস্থা নিরাপদ করতে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ৬২৫ মিলিয়ন ডলারের একটি ফেডারেল ফান্ড অনুমোদন করা হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক রেষারেষির কারণে সেই অর্থ এখনো ছাড় পায়নি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ফান্ডের অভাবে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা পরিকল্পনা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

এরই মধ্যে ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিরাপত্তাহীনতাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্বকাপের সময় যখন লাখ লাখ বিদেশি পর্যটক যুক্তরাষ্ট্রে নামবেন, তখন তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির পরিবহন সচিব শন ডাফি স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।