বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক

কি আছে ইরানের ১০ দফায়

আকতার   নিউজ ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা থামিয়ে যে ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য সামনে এসেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পেশ করা এই প্রস্তাবগুলোকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘আলোচনার জন্য কার্যকর ভিত্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

নিচে ইরানের সেই ১০ দফা প্রস্তাবের মূল বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো:

১. হামলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা: কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে সব ধরনের সামরিক সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাতে হবে। ২. নিরাপত্তার গ্যারান্টি: ইরানকে এই নিশ্চয়তা দিতে হবে যে, ভবিষ্যতে তাদের ওপর আর কোনো সামরিক হামলা চালানো হবে না। ৩. লেবানন ও আঞ্চলিক শান্তি: লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ইরানের মিত্রদের ওপর ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। ৪. অবরোধ প্রত্যাহার: ইরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা (Sanctions) সম্পূর্ণ তুলে নিতে হবে। ৫. জব্দকৃত সম্পদ ফেরত: বিদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে আটকে পড়া ইরানের সব আর্থিক সম্পদ ও তহবিল অবিলম্বে অবমুক্ত করতে হবে। ৬. ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে হবে। ৭. হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ: হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব বজায় থাকবে এবং এই পথে জাহাজ চলাচল ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। ৮. ট্রানজিট ফি বা টোল: প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি বাণিজ্যিক জাহাজকে ২ মিলিয়ন (২০ লক্ষ) মার্কিন ডলার ফি দিতে হবে। এই অর্থের একটি অংশ ওমানকে দেওয়া হবে এবং বাকি অংশ যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি পুনর্গঠনে ব্যয় হবে। ৯. মার্কিন সেনা প্রত্যাহার: মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলো থেকে মার্কিন যুদ্ধকালীন সেনাদলকে সরিয়ে নিতে হবে। ১০. জাতিসংঘের স্বীকৃতি: এই পুরো সমঝোতা প্রক্রিয়াকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে বাধ্যতামূলক (Binding) করতে হবে। ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতেই আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ইসলামাবাদে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। ইরান দাবি করছে, তাদের এই অনড় অবস্থানের কারণেই যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য হয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন একে একটি ‘কূটনৈতিক বিজয়’ হিসেবে দেখছে যা বিশ্ববাজার ও জ্বালানি সরবরাহকে স্থিতিশীল করবে।