আন্তর্জাতিক

সৌর শক্তিতে চীনের বিশ্বরেকর্ড: কয়লাকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে

আকতার   নিউজ ডেস্ক

১৯ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

বিশ্বজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপ্লবে একক আধিপত্য বজায় রেখে একের পর এক রেকর্ড গড়ছে চীন। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটি রেকর্ড পরিমাণ সৌর বিদ্যুৎ সক্ষমতা যোগ করেছে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে দেশটির সৌর শক্তি উৎপাদন সক্ষমতা প্রথমবারের মতো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে ছাড়িয়ে যাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।চীনের জাতীয় জ্বালানি প্রশাসনের (NEA) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটি প্রায় ৩১৫ গিগাওয়াট নতুন সৌর বিদ্যুৎ সক্ষমতা গ্রিডে যুক্ত করেছে। এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক, কারণ এক বছরে কোনো একক দেশের এত পরিমাণ সৌর সক্ষমতা বৃদ্ধির নজির আর নেই। এর ফলে চীনের মোট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১.২ টেরাওয়াটে (১২০০ গিগাওয়াট) পৌঁছেছে।চীনের বিদ্যুৎ কাউন্সিল (CEC) জানিয়েছে, ২০২৬ সাল দেশটির জ্বালানি খাতের জন্য একটি 'টার্নিং পয়েন্ট' হতে যাচ্ছে। বর্তমানে চীনে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংখ্যা বেশি হলেও, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সৌর এবং বায়ু বিদ্যুৎ মিলে চীনের মোট বিদ্যুৎ সক্ষমতার অর্ধেকেরও বেশি দখল করবে। প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে অ-ফসিল জ্বালানির (সৌর, বায়ু, পারমাণবিক ও জলবিদ্যুৎ) হিস্যা মোট সক্ষমতার ৬৩ শতাংশে উন্নীত হবে, যেখানে কয়লার হিস্যা কমে দাঁড়াবে মাত্র ৩১ শতাংশে।২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে (জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি) চীন আরও প্রায় ৪৫ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা যুক্ত করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৩২.৫ গিগাওয়াট এসেছে সৌর খাত থেকে। বর্তমানে চীনের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ২৩ শতাংশ মেটানো হচ্ছে বায়ু এবং সৌর শক্তির সমন্বয়ে।বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন তাদের 'ডুয়াল কার্বন' লক্ষ্যমাত্রা (২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া এবং ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষ হওয়া) অর্জনে মরিয়া। সরকারি ভর্তুকি, প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং বিশাল আকারের সোলার ফার্ম তৈরির কারণে চীন এখন বিশ্বের নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাজারে অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিতে পরিণত হয়েছে।